1. news@www.banglaroitizzo.com : BanglarOitizzo :
  2. imrankhanbsl01@gmail.com : Imran Khan : Imran Khan
  3. banglaroitizzo.news@gmail.com : newseditor :
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
কালীগঞ্জ পৌর আ’লীগের বিশেষ বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বনাথে খেলাফত মজলিসের শূরা অধিবেশন সম্পন্ন করোনাকালে ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস মাকে করোনা ভ্যাকসিন দিতে এসে মোটর বাইক চুড়ি শাজাহানপুরে ১০ টি বিট পুলিশিং কার্যালয় পরিদর্শন কালীগঞ্জ প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন দেওয়ান এর মামীর ইন্তেকাল। বিএনপি’র নেতা খন্দকার মাহাবুবের রোগমুক্তিতে জাগপা’র দোয়া মাহফিল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজিবর রহমানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন নাজমুল হক প্রধান (সাবেক এমপি) বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সুস্থতা কামনা এনডিপি’র ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন!

তিন জন ভোটার নিয়ে এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম বিশ্বনাথের শ্রীমূখ!

বিশ্বনাথ ( সিলেট ) প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১
  • ১২৮৫ বার পড়া হয়েছে
এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম

একটি বাড়ী একটি ঘর ৫ জনসংখ্যা নিয়ে এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম ‘শ্রীমূখ! ধনে জনে, ওলী আউলিয়ায় পদভারে ধন্য,সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথের খাজাঞ্চীতে অবস্থান এশিয়ার সবচেয়ে ছোট এই গ্রামটির।উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দুরে খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়া গাঁও ও তেলিকোনা গ্রামের মধ্যবর্তী ছায়া সুনিবিড় পাখ- পাখালির কলকাকলী মুখরিত স্থানে অবস্থিত এই ছোট গ্রামটি। যাতায়াতের কোন ব্যবস্থা নেই।বিশিষ্টজনদের অভিমত একটি মাত্র রাস্তা হলে ভ্রমণ পিপাসুদের মিলন মেলায় পরিনত হতো এশিয়ার সবচেয়ে ছোট এই গ্রামটি। কাউকে যদি বলা হয় বড় গ্রামের নাম কি? সবাই এক বাক্যে বলবে বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং। আর যদি বলা হয় এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রামের নাম কি? এমন প্রশ্নে অনেকেই দ্বিধা দন্ধে পড়ে যাবেন ।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নিজস্ব রাস্তাবিহীন ‘শ্রীমুখ’ গ্রামটিই এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম বলে বিবেচিত হবে! কেননা, ইতিপূর্বে এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম হিসেবে আলোচিত হওয়া কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার বেলঘর ইউনিয়নের ‘তিলইন’ গ্রামের জনসংখ্যা ৪০জন।অন্যদিকে, বিশ্বনাথের শ্রীমুখ গ্রামের বর্তমান জনসংখ্যা ৫জন। এর মধ্যে ৩জন নারী, ১জন পুরুষ ও ১জন শিশু। এই গ্রামের একমাত্র পুরুষ সদস্য প্রবাস জীবনে আছেন। আর ভোটারের সংখ্যা মাত্র তিন।

সমাজ সচেতন, গুনিজন পরিবেশবিদ অনেকেই মনে করেন, শ্রীমুখ শুধু এশিয়ারই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রামও হতে পারে তাতে সন্দেহ নেই!

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,মাত্র ৬০শতক ভূমিজুড়ে ‘এক বাড়ি-এক ঘরে এক গ্রাম’ খ্যাত শ্রীমুখে একসময় হিন্দু পরিবারের বসবাস ছিল। ১৯৬৪ সালের রায়টের সময় ওই হিন্দু পরিবার বাড়িটি স্থানীয় আপ্তাব আলীর পূর্বপুরুষের কাছে বিক্রি করে ভারতে চলে যান।

বর্তমানে আপ্তাব আলীর পরিবার এই গ্রামে বসবাস করে আসছেন। তবে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাস জীবন-যাপন করছেন। আর বাড়িতে বসবাস করছেন তার স্ত্রী-কন্যা ও দুই বোন।

শ্রীমুখ গ্রামে গেলে দেখা যায়,এই গ্রামটি চতুর্দিক ধানী জমি-বাঁশঝাড়, জঙ্গল ও কাদামাটি দ্বারা পরিবেষ্টিত। খালি পায়ে কাদামাটি ও পানি পেরিয়ে কোনো রকমে ঢুকতে হয় নিজস্ব রাস্তাবিহীন এই গ্রামে।

কথা হয় গ্রামের একমাত্র পুরুষ সদস্য, সৌদি প্রবাসী আপ্তাব আলীর স্ত্রী রাহিমা বেগমের সাথে। জানালেন নানা বঞ্চনা, দুর্ভোগ ও দুর্গতির কথা। বললেন, বাড়ির (গ্রামটির) নিজস্ব কোনো রাস্তা না থাকায় অন্যের জায়গা দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। তাদের একমাত্র কন্যাশিশুকে প্রতিদিন কাদামাটি-পানি পেরিয়েই স্থানীয় কিন্ডারগার্টেনে যেতে হয়। বিশেষ করে, বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এখানে বিশুদ্ধ পানির বড় অভাব। তাদের এই দুর্দশার কথা ভেবে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার মো. গিয়াস উদ্দিনের অভিমত,শ্রীমুখ গ্রামের পাশ্ববর্তী জমির মালিকেরা যদি রাস্তার জন্য (জমি দিয়ে) সহযোগীতার হাত বাড়ান তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যেকোন মূল্যে যাতায়াতের জন্য তাদেরকে রাস্তার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

এছাড়া তিনি আরো বলেন, সঠিক পর্যবেক্ষণ করে এই গ্রামটির সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোয়া লাগালে আমার ইউনিয়নের এই শ্রীমুখ গ্রামটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে সহজে পরিচিতি লাভে সক্ষম হবে এবং ‘শ্রীমুখ’গ্রামটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম হিসেবে গিনেজ বুকে নাম লেখাবে।

দেশের শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গ্রামটির কথা প্রচার হলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গুণীজন,কবি সাহিত্যিক,সাংবাদিক, ভ্রমণ পিপাসুরা সহ গত মৌসুমে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান ইত্যাদির একটি প্রতিনিধি দলও এসেছিলো এই শ্রীমূখে।

 

সর্বশেষ বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাসও কাদামাটি পেরিয়ে নির্জন এই গ্রামে এসেছেন গত ৩ রা আগষ্ট। সাংসদ মোকাব্বির খানের এপিএস অসিত রঞ্জন দেবসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরাও তার সাথে ছিলেন।

এশিয়ার সবচেয়ে ছোট এই গ্রামটিতে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিলে অসিত রঞ্জন দেব সিলেট ২ আসনের সংসদ সদস্যের সাথে কথা বললে মাননীয় সাংসদ একটি গভীর নলকূপ দিতে সদয় সম্মতি জানিয়েছেন এবং তা অচিরেই স্থাপন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন । আর এই গভীর নলকূপ এর জন্য সরকারী ফি জমা বাবদ সাত হাজার টাকা প্রদান করেন আর রাহমান এডুকেশন ট্রাস্টের পরিচালক,জামেয়া ইসলামিয়া এলাহাবাদ আলীম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিবার সদস্য ইমাম মাওলানা এম নুরুর রহমান।
আসলে মানুষ মাত্রই সৌন্দর্যপ্রিয়।পৃথিবীর অপার সৌন্দর্য মানুষ দু’চোখ ভরে দেখার জন্য প্রচুর অর্থ,সময় ও কষ্ট স্বীকার করলেও ঘরের পাশের অনির্বচনীয় সৌন্দর্যটুকু দেখা না হলে এমন দেখা কখনোই স্বার্থক হয়না।তাই কবির মত আমার ঘরের পাশে থাকা এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম ‘শ্রীমূখ” দেখার জন্য ভ্রমন পিপাসুদের প্রতি আহবান রহিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

নিউজ ক্যাটাগরি

UDOY ADD
©দৈনিক বাংলার ঐতিহ্য (2019-2020)