1. news@www.banglaroitizzo.com : BanglarOitizzo :
  2. imrankhanbsl01@gmail.com : Imran Khan : Imran Khan
  3. banglaroitizzo.news@gmail.com : newseditor :
সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

বিপর্যয়ের মুখে ৫০ লাখ মানুষের দখল-দূষণ-ভরাটে অস্তিত্ব হারাচ্ছে চলনবিলের নদ-নদী

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৮৯৫ বার পড়া হয়েছে
অস্তিত্ব হারাচ্ছে চলনবিলের নদ-নদী
ছবি : বাংলার ঐতিহ্য

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব ও আশির দশকে পদ্মার উৎসমুখে অপরিকল্পিতভাবে সুইসগেট নির্মানের ফলে চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়গুলোতে পলি জমে ক্রমশ ভারাট হয়ে গেছে।

সেইসাথে দখল দূষণ আর ভরাটের কারণে অস্তিত্ব হারিয়ে বৃহৎ এই বিলের প্রধান নদী নন্দকুঁজা, আত্রাই, গুমানী, বড়ালসহ ১৬টি নদ-নদী প্রায় মৃত হয়ে গেছে। ফলে নদী এলাকার প্রায় ৫০ লাখ মানুষ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

 

জানা যায়, চলনবিলে ১ হাজার ৭৫৭ হেক্টর আয়তনের ৩৯টি বিল, ৪ হাজার ২৮৬ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট ১৬ টি নদী এবং ১২০ বর্গ কিমি আয়তন বিশিষ্ট ২২ টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্রধান নদী ও ২০টি খালসহ ছোট ছোট বিভিন্ন খালবিল রয়েছে। অতীতে চলনবিলে ২৩ হাজারের মত বড় বড় পানির আধার ছিল। যা বেশিরভাগই দখলকৃত ও হাতছাড়া হয়ে গেছে। নদীগুলোর মধ্যে নন্দকুঁজা, গুমানী, আত্রাই, গুড়, করতোয়া, বড়াল, তুলসি, চেঁচিয়া, ভাদাই, চিকনাই, বানগঙ্গা ইত্যাদি। ১৮টি খালের মধ্যে রয়েছে নবীরহাজির জোলা, হকসাহেবের খাল, নিমাইচড়া খাল, বেশানী, গুমানী, উলিপুর, সাঙ্গুয়া, দোবিলা, কিশোরখালির খাল, বেহুলারখাড়ি, বাকইখাড়া, গোহালখাড়া, গাড়াবাড়ি খাল, কুমারভাঙ্গা খাল, জানিগাছার জোলা, সাত্তার সাহেবের খাল ও কিনু সরকারের ধর। অতীতে চলনবিলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত এসব নদ-নদীতে ৬-১২ ফুট পানি থাকতো বছরজুড়ে এবং নৌচলাচল করতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল বড়াল নদীকে অবক্ষয়িত জলাশয় ঘোষনা করে দখলে নেয়। নদী ধ্বংসের এই অপকর্মের ফলে নদীর তীরবর্তী জেলে, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেকার হচ্ছে। ফসলহানিসহ নদীসংলগ্ন এলাকায় বদ্ধ পানিতে দূষণ-দূর্গন্ধে রোগবালাই ছড়াচ্ছে। আর ব্যবস্থাপনার নামে সরকারি টাকা অপচয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে অকেজো হয়ে পড়া সুইসগেটগুলো। সব জেনেশুনে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

ইম্পেরিয়েল গেজেট অব ইন্ডিয়া বইয়ে বলা হয়েছে, চলনবিলের মাঝ দিয়ে যথেচ্ছাভাবে সড়ক, ব্রীজ-কালভার্ট, নদী দখল করে বসতি ও দোকানপাট স্থাপন করায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে নদীগুলো। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নদীগুলোতে এখন ৪-৫ মাসের বেশি পানি থাকে না। শুকনো মৌসুমে টিউবয়েল ও শ্যালো মেশিনে পানি পাওয়া যায়না। ফলে খাবার ও ইরিগেশনে সেচ দেওয়ার পানি পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মিজানুর রহমান জানান, ২০০৮ সাল থেকে প্রমত্তা পদ্মার শাখা নদী বড়াল রক্ষা, দখলমুক্তকরণ, বাঁধ অপসারণ, পুনঃখনন ও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলনে নামে। পরবর্তীতে জনদাবীর মুখে পানি উন্নয়ন বোর্ড টাস্কফোর্স গঠন করে। নদী বিষয়ক টাস্কফোর্স এবং ভুমি মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় কমিটির সভায় বড়াল নদীর সব বাঁধ অপসারন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে নদীগুলো উদ্ধারে কিছুই করা হয়নি। বড়াল নদীর ওপর নির্মিত সকল সুইসগেট-বাঁধ অপসারন করে সেখানে প্রস্থ সেতু নির্মান করাসহ নদীর সীমানা চিহ্নিত ও দখলদার উচ্ছেদ করে অচল নদী সচল করার দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বড়াল রক্ষা আন্দোলন ও চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটি ইতিমধ্যে মানববন্ধনও করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নাটোর জেলা শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা বড়াল নদী খননের জন্য একটি প্রকল্প দাখিল করেছিলাম। সেই প্রকল্পের উপরে চলতি বছরের ফেব্রæয়ারী মাসে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবীর বিন আনোয়ার স্যারের সভাপতিত্বে একটি মিটিং হয়। মিটিংয়ে কিছু কাজ দেওয়া হয়েছে। কাজসম্পন্ন হলে আমরা প্রকল্পটি পুনরায় দাখিল করবো।’

কিন্তু নদীর দখলদাররা স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন হওয়ায় তাদের অবৈধ উচ্ছেদের জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানান তিনি। চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ‘নদী দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য তালিকা তৈরি করে জেলার নদী রক্ষা কমিটির কাছে নথিসহ পাঠানো হয়েছে। লকডাউন শেষ হলেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

নিউজ ক্যাটাগরি

©দৈনিক বাংলার ঐতিহ্য (2019-2020)