1. news@www.banglaroitizzo.com : BanglarOitizzo :
  2. imrankhanbsl01@gmail.com : Imran Khan : Imran Khan
  3. banglaroitizzo.news@gmail.com : newseditor :
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
কালীগঞ্জ পৌর আ’লীগের বিশেষ বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বনাথে খেলাফত মজলিসের শূরা অধিবেশন সম্পন্ন করোনাকালে ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস মাকে করোনা ভ্যাকসিন দিতে এসে মোটর বাইক চুড়ি শাজাহানপুরে ১০ টি বিট পুলিশিং কার্যালয় পরিদর্শন কালীগঞ্জ প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন দেওয়ান এর মামীর ইন্তেকাল। বিএনপি’র নেতা খন্দকার মাহাবুবের রোগমুক্তিতে জাগপা’র দোয়া মাহফিল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজিবর রহমানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন নাজমুল হক প্রধান (সাবেক এমপি) বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সুস্থতা কামনা এনডিপি’র ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন!

বিসিএস ক্যাডার হয়েও বঞ্চনার শিকার সরকারি কলেজের অনেক শিক্ষক!

নিজস্ব ডেস্ক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১
  • ৫০২৩ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষক বঞ্চনা

কেউ ১৩তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন, কেউবা ১৪তম কিংবা ১৬তম বিসিএসে। বহু আগে বয়স ৫০ বছর পেরিয়েছে, চাকরিও শেষ দিকে। অথচ সরকারি কলেজের মেধাবী এসব শিক্ষকরা একটিও পদোন্নতি পাননি, রয়ে গেছেন প্রভাষক পদেই। বিভাগীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করতে না পারলে ভূতাপেক্ষভাবে চাকরি স্থায়ীকরণের বিধান নেই- এমন অজুহাতে আটকে দেওয়া হয়েছে স্থায়ীকরণ। তাঁদের একটিও পদোন্নতি হয়নি, পাননি উচ্চতর গ্রেড। অথচ ইতোপূর্বে বিভাগীয় পরীক্ষা সম্পন্ন না করলেও বয়স ৫০ বছর পূর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮১ এর ৮(১) (এফ) বিধি অনুসারে অনেককেই স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮১ এর ৮(১) (এফ) বিধি অনুসারে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী সরকারি কর্মকর্তাদের স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির জন্য শর্ত শিথিলের বিধান রয়েছে। এ বিধিতে বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তির পঞ্চাশ বৎসর বয়স পূর্ণ হইলে বিধি-৫ এর (বি) অনুচ্ছেদের শর্ত হইতে অব্যাহতি পাইবেন।’ বিধি-৫ এর বি অনুচ্ছেদের শর্ত অনুযায়ী, বিভাগীয় পরীক্ষায় পাস ও বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। ১৯৮১-এর অনুচ্ছেদ ৮(১) এর এফ বিধি অনুসারে বয়স ৫০ বছর পূর্ণ হলে এ দুটো শর্তই শিথিলের বিধান থাকলেও একটি সম্পন্ন করার পরও অজ্ঞাত কারণে বঞ্চিত করা হচ্ছে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত অন্তত ২৩ জন শিক্ষককে। দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও সর্বোচ্চ মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষা বিসিএস উত্তীর্ণ এসব শিক্ষকরা চাকরির শেষ সময়ে এসে স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি না হওয়ায় চরম মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশার মধ্যে দিনানিপাত করছেন।

১৬তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুর সরকারি রামগঞ্জ কলেজের স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতিবঞ্চিত দর্শনের প্রভাষক মুহাম্মদ আব্দুস শহীদ দুঃচিন্তা ও হতাশায় স্ট্রোক করে মানসিক প্রতিবন্ধির ন্যায় করুণ ও অসহায় জীবনযাপন করছেন। ১৬তম বিসিএসে ১৬তম স্থান অধিকারী মো. আজিজুর রহমানের বয়স ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে গত ৯ মে ২০১৭। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ৫৪তম ব্যাচে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন তিনি। স্ত্রীর দীর্ঘকালীন অসুস্থতা এবং ১ বছর বয়সী কন্যাশিশু রেখে অকালমৃত্যুসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিভাগীয় পরীক্ষা সমাপ্ত করতে পারেননি তিনি। ১৯৮১ এর ৮(১) এফ বিধি অনুসারে বেশ কয়েকবার চাকরি স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ সততা, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা সহকারে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানসহ অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আসা এ সরকারি কলেজ শিক্ষক।

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক শেঃ মো. মুয়াহ্হিদুল হক আবেদনে জানান, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতাসহ নানাবিধ সমস্যা-সংকটের কারণে তিনি বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা বিভাগে একাধিকবার সরাসরি যোগাযোগ করলে কিছুদিনের মধ্যে তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণ হবে বলে আশস্ত করা হয়। কিন্তু বয়স ৫০ বছরের উর্ধ্বে হওয়া সত্ত্বেও অদ্যাবধি তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণ হয়নি। মেরুদণ্ডের গুরুতর সমস্যাসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. ইকবাল আবেদনে জানান, ‘বয়স ৫০ বছর পূর্তিতে অনেক বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার চাকরি স্থায়ীকরণপূর্বক পদোন্নতি প্রদান করা হলেও আমাদেরকে বিধি অনুসারে একই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না’।

১৯৮১-এর অনুচ্ছেদ ৮(১) এর এফ বিধি অনুসারে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের অনেক শিক্ষককে স্থায়ীকরণ করে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী (স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৬৭.১২.০০৫.২০১৪-৫১-শিক্ষা) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮১ এর ৮(১) (এফ) বিধি অনুযায়ী শিথিল ও প্রমার্জন করে ভূতাপেক্ষভাবে ২০ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখ থেকে স্থায়ী করা হয়েছে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সেলিনা হামিদকে। সিনিয়র সহকারী সচিব জনাব আবু কায়সার খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা জনাব সেলিনা হামিদ (৮০৯৭), প্রভাষক (ইংরেজি), ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা-এর চাকরি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮১-এর ৮(১) (এফ) বিধি অনুযায়ী শিখিল ও প্রমার্জন করে ২০/১২/২০১২ তারিখ হতে স্থায়ী করা হলো।’

৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী (স্মারক ৩৭.০০.০০০০.০৬৭.০৭.০০৪.২০১৩-৭৭৪-শিক্ষা) ১৯৮১ এর ৮(১) (এফ) বিধির আলোকে স্থায়ীকরণ করা হয়েছে ১৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুর রহমানকে (৭০৭০)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৭ আগস্ট ২০১৭ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী (স্মারক ৩৭.০০.০০০০.০৬৭.০৭.০০৪.২০১৩-৭৫৮-শিক্ষা) একই বিধি অনুযায়ী স্থায়ীকরণ করা হয়েছে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. আলতাফুর রহমানকে। সিনিয়র সহকারী সচিব আবু কায়সার খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘জনাব মো. আলতাফুর রহমান (১০৮৩৩), প্রভাষক (পদার্থবিজ্ঞান), খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, খাগড়াছড়ি এর বয়স ৫০ বছরের উর্ধ্বে হওয়ায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা ১৯৮১ এর ৮(১) (এফ) বিধি অনুযায়ী স্থায়ী করা হলো।’ তাঁরা সবাই সহকারী অধ্যাপক পদেও পদোন্নতি পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, তেমন কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ পাওয়া অসংখ্য আত্মীকৃত কলেজ শিক্ষককে ৫০ বছর পূর্তিতে স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ২৩ অক্টোবর ২০১৭ এর একটি আদেশেই স্থায়ীকরণ করা হয় ৩৮৩ জন আত্মীকৃত শিক্ষককে। স্থায়ীকরণের পর পদোন্নতি পেয়ে অনেকেই অধ্যাপক, এমনকি অধ্যক্ষ পর্যন্ত হয়ে গেছেন।

মাউশির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর মো. মাহবুবুর রহমান বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. ছরওয়ার আলমের ৫০ বছর পূর্তিতে স্থায়ীকরণের সুপারিশ করেন। তিনি সুপারিশপত্রে ১৯৮১ এর ৮(১) (এফ) বিধির আলোকে ইতোপূর্বে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের স্থায়ীকরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। শুধু বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারাই নন, এ যাবৎ অসংখ্য আত্মীকৃত কলেজ শিক্ষককে ৫০ বছর পূর্তিতে চাকরি স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অথচ বারবার আবেদন করেও স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি বঞ্চিত রয়েছেন অন্তত ২৩ জন বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত শিক্ষক। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি অধিদপ্তরের কিছু ডেস্ক কর্মকর্তার ভুল ব্যাখ্যার কারণে এ ব্যাপারে কোনো সমাধান মিলছে না। এসব কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারণে মৃত্যুর আগে নিজের স্থায়ীকরণ দেখে যেতে পারেননি, মৃত্যুর পর স্থায়ীকরণ করা হয়েছে এমন নজিরও আছে!

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি কলেজ-১ শাখার ২৯ আগস্ট ২০১৮ তারিখের (স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৬৭.৯৯.০২২.১৮-৪১৩) এবং ১৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখের (স্মারক (৩৭.০০.০০০০.০৬৭.৯৯.০২২.১৮-৫০০) পত্রে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ৫০ বছর বয়স-উর্ধ্ব বিভিন্ন পর্যায়ের ও বিভিন্ন বিষয়ের কর্মকর্তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে তথ্যছক মোতাবেক আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সব সরকারি কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পত্র ও তাগিদপত্র দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের (সরকারি কলেজ-১ অধিশাখা) তৎকালীন উপসচিব আবু কায়সার খান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন উপ-পরিচালক (কলেজ-১) ড. প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ৫০ (পঞ্চাশ) বছরের উর্ধ্ব-বয়সী কর্মকর্তাদেরকে চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদন প্রেরণের জন্য একাধিকবার তাগিদ ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সে মোতাবেক চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য যথাযথভাবে আবেদন করলেও অদ্যাবধি স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি পাননি বিসিএস ক্যাডারভুক্ত এসব শিক্ষক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রেরিত চিঠিতে (স্মারক নং ৩৭.০২.০০০০.১০৩.৪৫.০০১.২০১৮-১৫৪৪) বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ জন কর্মকর্তা এবং ১০% কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত ১১ জন কর্মকর্তার বয়স ৫০ বছরের বেশি হওয়ায় সুপারিশসহ চাকরি ভূতাপেক্ষভাবে স্থায়ীকরণের তথ্যসম্বলিত তালিকা প্রেরণ করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে এ তালিকায় ছিলেন ১৩তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক শেখ মো. মুয়াহহিদুল হক (আইডি নং-৩০০৪), ১৪তম বিসিএসের ঝিনাইদহ কেসি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক ফাহমিদা খাতুন (৬৫৪২), চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক নায়লা জামিল (২৭৮৫) এবং ১৬তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত ঢাকার শহীদ বেগম শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শাহানা পারভীন (১৮১০৯), টাঙ্গাইল সরকারি সা’দত কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. আজিজুর রহমান (৫০৮৭) এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি রামগঞ্জ কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ আব্দুস শহীদ (৯২৫৪)।

বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ১০% কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন আরও ১১ জন কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ (১০৩০১), শাহজাহান আলী (৪৯৯০), মো. শাহ আলম (২৫৪৫), মো. শহীদুল ইসলাম (১০৪১২), ড. মো. আব্দুস সবুর খাঁন (৯৬৭৩), জয়দেব সজ্জন (৯৪৯৭), পরাগ কান্তি দেব (৪০১৫), মো. কালিমুল্লাহ (১০৯৪৮), মো. নাসিম হায়দার (৩৫০), ড. মো. আব্দুল মান্নান (১০২৩০) এবং ড. বি. এম রেজাউল করিম (৯৬৮৭)।

উল্লেখিত ১৭ জন ছাড়াও পরবর্তীতে স্থায়ীকরণের নিমিত্তে আবেদনকৃত আরও ৫ জন বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তার নাম মাউশি কর্তৃক এ তালিকায় যুক্ত হয়। তাঁরা হচ্ছেন ১৪তম বিসিএসের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. ইকবাল (৪৯৪৪), ১৬তম বিসিএসের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মাহফুজা আক্তার (১০৮৬), শেখ মো. আব্দুস সালাম (৭৫৭০), হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. মাহতাব হোসেন (৫৫৪৬)। এছাড়া ১৬তম বিসিএসের দর্শন বিভাগের প্রভাষক শাহীন পারভীন (০০০০৫২১৯)-সহ আরো অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তাই একাধিকবার আবেদন করেও অদ্যাবধি স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতিবঞ্চিত।

গত ৮ জুন ২০২০ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে প্রভাষক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়ভিত্তিক খসড়া তালিকায় উপরোক্ত শিক্ষকদের নাম থাকলেও ডানপাশে মন্তব্য কলামে ‘চাকরি স্থায়ীকরণ হয়নি’ বলে উল্লেখ করা হয়। ভূক্তভোগী শিক্ষকদের বয়স ৫০ বছরের উর্ধ্বে হওয়ায় ১৯৮১ এর ৮(১) (এফ) বিধি মোতাবেক মন্তব্য কলাম সংশোধনপূর্বক চাকরি স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষে কয়েক দফা আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

স্বামীর অকালমৃত্যু ও নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত চট্টগ্রাম হাজী মুহম্মদ মহসীন কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক নায়লা জামিল জানান, ‘বয়স ৫০ বছরের অধিক হওয়ার পরেও আজ পর্যন্ত আমার চাকরি স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি হয়নি। যার দরুণ আমি চরম হতাশার মাঝে দিন কাটাচ্ছি। এতোকাল পর্যন্ত প্রভাষক পদে অবস্থান করায় মানসিক ও সামাজিকভাবে ভীষণ হেয় ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছি। অন্যদিকে আর্থিকভাবেও অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আসছি।’

মানিকগঞ্জ সরকারি ভিকু মেমোরিয়াল কলেজের ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক মাহফুজা আক্তার, ঢাকার শহীদ বেগম শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শাহানা শারমিনসহ অনেক বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তা ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত ও দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত। চাকরির শেষ বয়সে এসেও স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি না হওয়ায় চরম হতাশা নেমে এসেছে এসব শিক্ষক পরিবারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী, শিক্ষাসচিব, মাউশির মহাপরিচালকের সুদৃষ্টি, মানবিক বিবেচনা ও আশু সমাধান কামনা করেছেন পদোন্নতিবঞ্চিত সরকারি কলেজের এসব শিক্ষক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

নিউজ ক্যাটাগরি

UDOY ADD
©দৈনিক বাংলার ঐতিহ্য (2019-2020)