1. news@www.banglaroitizzo.com : BanglarOitizzo :
  2. imrankhanbsl01@gmail.com : Imran Khan : Imran Khan
  3. banglaroitizzo.news@gmail.com : newseditor :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভারত এসএমই ফাউন্ডেশনে চাকরি সীমিত পরিসরে বিআরটিএ’র সেবা চালু হচ্ছে আজ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুখ্যাত মাদক সম্রাট স্মার্ট মৌসুমী গ্রেফতার। বেঁচে থাকার স্বপ্নপূরনে ফ্রি অক্সিজেন ও ৫টাকায় হাজার টাকার খাদ্য সহায়তায় ”স্বপ্নপূরণ” বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে বিশ্বনাথের ‘রাজ- রাজেশ্বরী” মন্দির রাজ একা নন, বলিউডের আড়ালে পর্ন ছবি বানাতেন এই অভিনেত্রীও ঝালকাঠিতে ঈদের দিনে ফ্রি অক্সিজেন সেবা দেয়ার মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন নলছিটিতে সেচ্ছেসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ফ্রি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিক নিবন্ধন সেবা নওগাঁয় জেলা রোভারের আয়োজনে গ্রুপ সভাপতি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত।

রোভার সাদিয়া ছিদ্দিকা পাঁপড়ি’র নতুন গল্প “রক্তে কেনা স্বাধীনতা” ।

সাদিয়া ছিদ্দিকা পাঁপড়ি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৬৩ বার পড়া হয়েছে
রক্তে কেনা স্বাধীনতা । দৈনিক বাংলার ঐতিহ্য

যশোরের ঝিকরগাছার রহমত আলী,বয়স ৩৯ কি ৪০ বছর হবে।বাবা-মা,স্ত্রী,এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভালই ছিল তার পরিবার।সুখেই তাদের দিন কাটছিল।রহমত আলী পেশায় ছিলেন একজন কৃষক।কৃষিকাজ করে যা আয় করতেন তা দিয়ে কোন মতে তাদের দিন চলে যেত।ঘরে অভাব থাকলেও মনে ছিল শান্তি।কিন্তু এ শান্তি বেশিদিন তাদের সইল না।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ,রহমত আলী জলিল গাজীর সাথে আলাপরত অবস্থায় রেডিও শুনছিল।হঠাৎ সে শুনতে পেল এক বলিষ্ঠ কণ্ঠধারী ব্যক্তি বলছেন-“এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাীনতার সংগ্রাম।রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্।”এ ভাষণ শুনে রহমত চমকে ওঠেন।পরে তিনি বুঝতে পারেন রেডিওতে যিনি ভাষণ দিচ্ছেন তিনি আর কেউ নন,তিনি আমাদের সকলের কল্যাণকামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

২৫ শে মার্চ,পাকিস্তানিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত বঙালিদের উপর,শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

২৬ শে মার্চ সকাল দশটা,রহমত দোকানে যাচ্ছে।রাস্তায় দেখা হয় ফজলু মিয়ার সাথে,ফজলু মিয়া তাকে ২৫ শে মার্চ রাতে ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞের কথা খুলে বলেন।তার কথা শুনে রহমতের বুকে ব্যাথ্যা করে ওঠে।সে আর দোকানে যায় না,বাড়িতে ফিরে আসে।বাড়িতে এসে মেয়ে হাসিকে বলে-” আামায় কিছু খেতে দেতো মা।” হাসি তাকে গুড় আর মুড়ি খেতে দেয়।গুড় -মুড়ি খেয়ে সে সেদিন বাড়িতে থেকে যায়,মাঠে যায় না।

কিছুদিন পর গ্রামে মিলিটারি আসে।তাদের সঙ্গী হয় এদেশীয় কিছু লোক।রহমত সিদ্ধান্ত নিল সে যুদ্ধে যাবে।তার ১৭ বছরের ছেলে কাশিম বলে-“বাবা আমিও তেমার সঙ্গে যুদ্ধে যাব,দেশের জন আমি প্রাণ দিতেও প্রস্তুত।”ছেলের কথা শুনে রহমত কেঁদে উঠে বলে-“ছেলে দেখছি আমার বড় হয়ে গেছে।” রহমত আর কাশিম ভারতে যায় যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে।বাড়িতে থেকে যায় কাশিমের দাদা-দাদি, মা আর ১৫ বছরের বোন হাসি।বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় রহমত হাসিকে বলে –

“আমি যদি বেঁচে থাকি, তবে দেশ স্বাধীন হলে তোর জন্য স্বাধীন দেশের পতাকা আনবো।”

 

প্রশিক্ষণ শেষে কাশিম আর রহমত দেশে ফিরে আসে যুদ্ধ করার জন্য।তারা খুলনায় যুদ্ধ করে।

২৬ শে সেপ্টেম্বর দুপুরবেলা রহমতের স্রী আমেনা রান্নার জন্য শাপলা তুলতে বিলে গেছে,বাড়িতে রহমতের বাবা-মা আর হাসি।হঠাৎ রাজাকাররা পথ দেখিয়ে তাদের বাড়িতে মিলিটারিদের নিয়ে আসে।হাসি তখন গোসল শেষ করে পুকুর থেকে ঘরের দিকে যাচ্ছে।হাসিকে দেখে তারা জঘন্য হাসি দিল।তারা হাসিকে ইশারা করে ডাকে।হাসি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে উল্টো দিক থেকে আসা দু’জন মিলিটারি তাকে ধরে ফেলে।হাসির দাদা-দাদি চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখে মিলিটারিরা হাসিকে ধরে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছে।তারা দৌড়ে এসে হাসিকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে এক রাজাকার তাদের বুকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে একজন মিলিটারি তাদের দুজনকে গুলি করে।হাসি চিৎকার করে,কিন্তু ওর চিৎকার শুধু বাতাসেই মিশে যায়।
কিছুক্ষণ পর আমেনা বাড়িতে আসে।বাড়িতে এসে দেখে তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ির মৃতদেহ মাটিতে পড়ে আছে।সে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে যায়।জ্ঞান ফিরলে তার মনে পড়ে হাসির কথা।সে হাসিকে ডাকে, কিন্তু হাসি আর ডাক শোনেনা।পরের দিন হাসির দেহ ঝুলতে দেখা যায় বিলের ধারের বটগাছে।হয়ত সম্ভ্রম হারানোর অপমান সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে।

ওদিকে রহমত আর কাশিম খুলনার ডুমুরিয়াতে যুদ্ধ করছিল।একদিন কাশিম মুক্তিযোদ্ধারের জন্য বাজার করতে দোকানে যায়।সে চাল,ডাল,আলু,তেল আর লবণ কেনে।দোকান থেকে ফেরার সময় কিছু বুঝে ওটার আগেই পিছন থেকে তার ওপর গুলি চলে।তার সাদা জামা রক্তে লাল হয়ে যায়।চারটি গুলি লেগেছিল তার শরীরে।মিলিটারিরা চলে যায়,কিন্তু সেখানেই পড়ে থাকে কাশিমের নিথর দেহ আর হাতে থাকা চাল,ডাল, তেল,আলু,লবণ ছড়িয়ে থাকে মাটিতে।রহমত ছেলের মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়ে,পরক্ষণেই সে ভাবে তার ছেলেতো দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে,কাশিমতো শহিদ হয়েছে।

এদিকে আমেনা সব হারিয়ে পাগল হয়ে যায়।সে নিজে সেলাই করে একটি স্বাধীন দেশের পতাকা বানায়।সে পতাকা বুকে নিয়ে আমেনা যেখানে-সেখানে ঘুরে বেড়ায় আর বলে-“স্বধীনতা,স্বধীনতা,স্বধীনতা।”

১৬ ই ডিসেম্বর,বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা অর্জন করে।সেদিনই রহমত যশোরে ফিরে যায়।কিন্তু বাড়িতে কাউকে দেখতে না পেয়ে সে চিন্তিত হয়ে পড়ে।হাসিকে ডাকে আর বলে -“হাসি,মা এদিকে আয়।দ্যাখ আমি তোর জন্য কি নিয়ে এসেছি, স্বধীন বাংলাদেশের পতাকা।” রহমতের কথার কেউ কোনো সাড়া দেয় না।পাশের বাড়ির করিম চাচা রহমতকে দেখে এগিয়ে এসে বলে-“বাপ, তুই ফিরে আইছিস! তোর বাপ আর মা’রে মিলিটারিরা মাইরে হাসিরে তুইলে নিয়ে যায়।তারপরে হাসি আার বাড়ি আসেনা, বটগাছে গলায় দড়ি দেয়।তোর বউ বাইচে ছেলো,ব্যাচারি পাগল হয়ে গিলো।বুকে স্বাধীন দেশের পতাকা নিয়ে ঘুইরে বেড়াতো।একদিন মিলিটারিগে সামনে পড়লি ওর কাছে পতাকা দেইহে ওরেও গুলি কইরে মাইরে ফ্যালায়।আমরা কয়জনে চুরি কইরে ওগে মাটি দিছি।”

রহমত কেঁদে কেঁদে জিজ্ঞাসা করে -“কোথায় ওদের কবর?”
করিম চাচা রহমতকে কবরের কাছে নিয়ে যায়।

 

রহমত ওদের কবরে জাতীয় পতাকা রেখে বলে-“বাবা,মা,হাসি,আমেনা তোমরা দেখ আমরা এখন স্বাধীন।আজ আমি কাঁদবো না,কারণ তোমরা তো মরনি, বরং তোমরা আজীবণ প্রতিটি বাঙ্গালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

নিউজ ক্যাটাগরি

UDOY ADD
©দৈনিক বাংলার ঐতিহ্য (2019-2020)
Theme Customized BY LatestNews