1. news@www.banglaroitizzo.com : BanglarOitizzo :
  2. imrankhanbsl01@gmail.com : Imran Khan : Imran Khan
  3. banglaroitizzo.news@gmail.com : newseditor :
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
কালীগঞ্জ পৌর আ’লীগের বিশেষ বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বনাথে খেলাফত মজলিসের শূরা অধিবেশন সম্পন্ন করোনাকালে ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস মাকে করোনা ভ্যাকসিন দিতে এসে মোটর বাইক চুড়ি শাজাহানপুরে ১০ টি বিট পুলিশিং কার্যালয় পরিদর্শন কালীগঞ্জ প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন দেওয়ান এর মামীর ইন্তেকাল। বিএনপি’র নেতা খন্দকার মাহাবুবের রোগমুক্তিতে জাগপা’র দোয়া মাহফিল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজিবর রহমানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন নাজমুল হক প্রধান (সাবেক এমপি) বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সুস্থতা কামনা এনডিপি’র ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন!

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের মাছ ধরার এমন দৃশ্য

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১
  • ৬২৩৫ বার পড়া হয়েছে
কারেন্ট জাল

গ্রামীণ জনপদে বর্ষাকালের শেষে শরৎ কালের মাঝামাঝি সময় মাছ ধরার চিরচেনা এমন দৃশ্য এখন আর আগের মত নেই । ভরাট হয়ে যাচ্ছে আমাদের হাওর, খাল, বিল, ডোবা, জলাশয় সহ গ্রাম অঞ্চলের আকাঁবাঁকা রাস্তার পাশের ছোট বড় গর্ত। যেখানে সেখানে আর অবাধে মাছের বিচরণ নেই। ক্ষেত-খামারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে দিন দিন দেশীয় প্রজাতির হরেক রকম মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
আগেকার দিনে খাল- বিল, ডোবা জলাশয় ও পুকুরে পানি সেচে মাছ ধরা হতো। কিন্তু আজ কালের পরিক্রমায় গ্রাম বাংলার প্রাচীন চিরায়ত ঐতিহ্য মাছ ধরার সেই দৃশ্য এখন আর সচরাচর চোখে পড়েনা।কারণ কারেন্ট জালে বাজার সয়লাব। এই কারন্ট জাল মাছের পোনা সহ সব ধরণের মাছের বংশ বিস্তারে মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।

ভাদ্র ও আশ্বিন মাসের বৃষ্টি বিহীন দিনের রোদ আর গরমের তীব্রতার তেজে নদ-নদী খাল বিলের পানি দ্রুত কমে যাবার সাথে সাথে শুকিয়ে যেতে থাকে ডোবা ফসলি জমী গুলি। আর সেই সুবাদে এসব স্থানের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় আটকা পড়ে যায় দেশীয় উপজাতির হরেক রকমের ছোট বড় মাছ। আর সেই সুযোগে গ্রামের ছোট বড় নারী পুরুষ হাত দিয়ে মাছ ধরে। তীব্র রোদ ও গরমে হাঁটুজলে কাদা মিশ্রিত পানিতে মাছ ধরার এই দৃশ্য গ্রামীন জীবনের অন্যতম বিনোদনও বটে। শত শত বছর ধরে এ ধারা চলে আসছে, যা আজও বহমান।

বিশ্বনাথের খাজাঞ্চী এলাকায় মরা সুরমা কালের বিবর্তনে এর আয়তন অনেকটা ছোট হয়ে আসা ও প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় কিছুটা হলেও বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে টইটম্বুর হয়ে উঠে এই সুরমা নদী । পানির স্রোতধারায় এই নদীতে মাছ ধরার দৃশ্য আগের তুলনায় এখনো অনেক কমে গেছে। তারপরও এই এলাকার কিছু সৌখিনমাছ শিকারী পলো,উড়াল জাল ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরতে জমায়েত হয় অনেক সময়। চলে মাছ ধরার মহা উৎসব। রীতিমতো আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে লোকজন।
গ্রামীণ জনপদের পুকুর-ডোবা, খাল-বিলের শূন্য পানির কাদার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে তুলে আনতো একের পর এক মাছ। পুকুরেও চাষ করা মাছের পাশাপাশি পাওয়া যায় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ। আর ডোবায় মেলে শোল, টাকি, পুঁটি, খলসে, কৈ,চিংড়ী, শিং, মাগুর, , ট্যাংরাসহ দেশি প্রজাতির হরেক রকম মাছ।

কিছুটা হলেও আজ কাদায় মাছ ধরার এমনই এক দৃশ্য দেখা গেলো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চিতে রাস্তার পাশে শুকিয়ে যাওয়া শুন্য ক্ষেতের জমিতে।মাছ ধরতে আশা একজনকে জিজ্ঞেস করলে,সে বলে আগে প্রতি বছর বর্ষাকাল শেষে জমির পানি শুকিয়ে গেলে বা পানি কমে গেলে এই এলাকার নিচু জমিগুলোতে এমন মাছ ধরার উৎসব চলে। সেই উৎসবে মাছ ধরায় মেতে উঠে গ্রামের অসংখ্য নারী-পুরুষ, ছেলে-বৃদ্ধা। কাদা পানিতে নেমে হাত দিয়ে অথবা ঠেলা জাল বা অন্যান্য ছোট খাটো জাল দিয়ে কে কতো বেশি ও কি ধরনের মাছ ধরতে পারে, এ নিয়ে এক প্রকার অলিখিত প্রতিযোগিতা চলতো। কিন্তু আজ আর আগেকার দিনের মাছ ধরার এমন দৃশ্য নাই।

আগে এমন করে নানা জাতের দেশীয় মাছ প্রচুর পরিমাণে ধরা গেলেও, কালের বিবর্তনে এখন আর সেই দিনের মাছ ধরার অবস্থা এখন আর নেই। নেই মাছের সে প্রাচুর্য। প্রতিনিয়ত মাছের অভয়ারণ্য কমে যাওয়ায় আগের মতো জমে ওঠেনা মাছ ধরার উৎসব। দেশীয় মাছের উৎসগুলো ক্রমেই যেন হারিয়ে যাচ্ছে। খাল-বিল থেকে দিন শেষে মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্য এখন তেমন চোখে পড়েনা। তার কারণ জানতে চাইলে আব্দুল ওয়াহিদ নামের এক মাছ শিকারী বলেন,মাছ কোথায় পাবো? পনা ছাড়ার সাথে সাথে তা মেরে ফেলা হয়।আর যা হয় তা আবার মরন ফাঁদ নামক কারেন্ট জাল দিয়ে একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। তাই সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ ‘ভাতে মাছে বাঙালী” এই শ্লোগানে আবারো উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশের মৎস্য সম্পদকে বাঁচাতে অবিলম্বে কারেন্ট জাল নামক মরন ফাঁদ নিষিদ্ধ করতে হবে।আইন করে কারেন্ট জাল প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতাসহ ব্যবহারকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নতুবা কালের বিবর্তনে মাছ এবং মাছ ধরার এমন দৃশ্য চিরতরে হারিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

নিউজ ক্যাটাগরি

UDOY ADD
©দৈনিক বাংলার ঐতিহ্য (2019-2020)